ব্যাংক অফ জাপান (BOJ): জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি? এবং এর কাজ কি?

আপনি যদি জাপানিজ ইয়েন সম্পর্কিত যেকোন কারেন্সি পেয়ার, যেমনঃ USD/JPY ট্রেড করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই সাবধানে থাকবেন ব্যাংক অফ জাপান সম্পর্কে। হ্যাঁ, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ব্যাংক অফ জাপানের কথাই বলছি।

সাবধানে থাকতে বলার কারন হচ্ছে অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যে কাজগুলো করে, তার পাশাপাশি ব্যাংক অফ জাপান আরেকটি কাজ করে থাকে, আর তা হল জাপানের মুদ্রা জাপানিজ ইয়েনকে শক্তিশালী হতে না দেওয়া। আর তাই, যখনই জাপানিজ ইয়েন শক্তিশালী হয়ে উঠতে থাকে, তখনই বাজারে হস্তক্ষেপ করে বসে ব্যাংক অফ ইয়েন, যা ইয়েনকে অনেকটা দুর্বল করে দেয়। ব্যাংক অফ জাপান এটা করে বাজারে ইয়েনের সরবরাহ বাড়িয়ে বা সুদের হার কমিয়ে অথবা অন্য কোন উপায়ে। ব্যাংক অফ জাপানের এরকম সরাসরি হস্তক্ষেপের জন্য BOJ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত সমালোচিত।

আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, ইয়েনকে শক্তিশালী করা থেকে রুখতে ব্যাংক অফ জাপান এত মরিয়া কেন? জাপানের অর্থনীতির দিকে তাকালেই এর উত্তর পাওয়া যাবে। দেশটির অর্থনীতি ব্যাপকভাবে রপ্তানী নির্ভর। দেশটি যে পরিমান আমদানি করে, রপ্তানি করে তার অনেক বেশি। আর কারেন্সি যত দুর্বল হবে, রপ্তানিকারক দেশের জন্য তা তত সুবিধার। কিন্তু, অর্থনীতি শক্তিশালী হলে কারেন্সিও অর্থনীতির নিয়মানুসারে শক্তিশালী হবে। তাতে জাপানের রপ্তানি ব্যাহত হবে। একারনেই BOJ কৃত্তিমভাবে ইয়েনকে দুর্বল করে রাখে।

ব্যাংক অফ জাপানের কাজঃ

১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংক অফ জাপান প্রাচীনতম প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর একটি। ব্যাংক অফ জাপানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতই। আর তা হচ্ছেঃ

  • জাপানীজ ইয়েন ব্যাংকনোট ইস্যু করা।
  • মনেটারি পলিসি বা আর্থিক নীতি বাস্তবায়ন করা।
  • অর্থনৈতিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা ধরে রাখা
  • ট্রেজারি এবং সরকারী সিকিউরিটিজ-সম্পর্কিত কার্যাবলী সম্পাদন করা।
  • এছাড়াও অর্থনৈতিক বিভিন্ন তথ্য উপাত্তি বিশ্লেষণ ও গবেষণা

ব্যাংক অফ জাপানের সর্বোচ্চ পদটি হচ্ছে গভর্নর। জাপান সরকারের অর্থনৈতিক পলিসিতে BOJএর গভর্নরের বড় ধরনের প্রভাব থাকে। ব্যাংকটির বর্তমান গভর্নর হচ্ছেন হারুহিকো কুরোডা, যিনি পুর্বে এশিয়ান ডেভেলপ ব্যাংক (এডিবি) এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। BOJ এর সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কমিটি হচ্ছে এর মনেটারি পলিসি বোর্ড। এই বোর্ড গঠিত হয় ৯ জন সদস্য নিয়ে। এই ৯ জন সদস্যের মধ্যে ৬ জন সদস্যই থাকবেন পলিসি বোর্ডের, এছাড়াও থাকবেন ব্যাংকটির গভর্নর এবং আরও দুইজন ডেপুটি গভর্নর। আর্থিক নীতি প্রনয়নে ব্যাংক অফ জাপানের বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো এই বোর্ডই নিয়ে থাকে। পলিসি বোর্ডের সদস্যরাই সিদ্ধান্ত নেন, সুদের হার কখন বাড়াতে বা কমাতে হবে। এক্ষেত্রে, BOJ বিভিন্ন সময়েই অপ্রত্যাশিতভাবে সুদের হার পরিবর্তন করে সবাইকে অবাক করে। কিন্তু, প্রায় প্রতি মাসেই সুদের হার পর্যালোচনার মিটিং হলেও বিগত কয়েক বছরের মধ্যে BOJ শুধুমাত্র একবার ২০০১৬ সালের জানুয়ারীতে সুদের হার পরিবর্তন করে ০.১০ শতাংশ থেকে -০.১০ শতাংশে নামিয়ে নিয়ে আসে। তাই, ফরেক্স ট্রেডাররা BOJ এর সুদের হার নির্ধারণী বৈঠক ট্রেড করে তেমন কোন সুবিধা পান না। উল্টো BOJ হটাত হটাত ফরেক্স মার্কেটে হস্তক্ষেপ করায় ইয়েন ট্রেড করা দুরূহ হয়ে পড়ে। তাই বলা হয়, BOJ কি করতে পারে, সেটা ভেবে ট্রেড না করে, BOJ কি করল, সেটা দেখে ট্রেড করা ভালো। তাছাড়া অবশ্যই, ইয়েন সম্পর্কিত কারেন্সি পেয়ারগুলো ট্রেড করার সময় স্টপ লস ব্যবহার করা উচিত।

এক নজরে ব্যাংক অফ জাপানঃ

নামঃ Bank of Japan বা সংক্ষেপে BOJ
সদরদপ্তরঃ টোকিও, জাপান
প্রতিষ্ঠাকালঃ ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দ
গভর্নরঃ হারুহিকো কুরোডা
অন্যান্যঃ জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক, জাপানিজ ইয়েনের ইস্যুকারী
ওয়েবসাইটঃ www.boj.or.jp

হোম
নিউজ
ট্রেডিং স্কুল
ব্রোকার
সিগন্যাল
ক্লাব
Scroll to Top