1 of 2

ফরেক্স ট্রেড করার জন্য এই ২টি লাভজনক কারেন্সি পেয়ার আপনার তালিকায় রাখতে পারেন

যেকোনো সাধারন মানুষই হোক বা ফরেক্স ট্রেডার, আমরা সবাই অভ্যাসের দাস। আসল ব্যাপারটি এমন, আমরা যদি কোন কাজে সফল হই বা সত্যিকারভাবে কাজ করে এমন কোন কিছুর সন্ধান পাই, তখন সে কাজটিই আমরা বারবার করতে থাকি। আর ফরেক্স ট্রেডেও ঠিক এমন ব্যাপারটিই ঘটে। যখন আমরা নতুন ফরেক্স ট্রেডিং করতে শুরু করি, তখন মূলত একটি বা ২টি কারেন্সি পেয়ার নিয়ে ট্রেড করতে থাকি। কিন্তু অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও দেখা যায় সে পেয়ারগুলো থেকে আমরা আর বের হতে পারি না। নতুন ট্রেডারদের জন্য অল্প কারেন্সি পেয়ার নিয়ে ট্রেড করায় ভালো। কিন্তু, আপনি যখন একজন পরিনত ফরেক্স ট্রেডার হবেন, তখন আপনি একটি বা দুটি পেয়ারের পেছনে পড়ে না থেকে, অন্যান্য পেয়ারের খোঁজ খবর রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নতুন ফরেক্স ট্রেডারগন প্রতিনিয়ত ইউরো/মার্কিন ডলার (EUR/USD) এবং ব্রিটিশ পাউন্ড/মার্কিন ডলার (GBP/USD), পেয়ার দুটির প্রতি বেশী মনযোগী হয়। ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড করার জন্য বিভিন্ন ধরনের কারেন্সি পেয়ার রয়েছে, এবং বিভিন্ন ধরনের পেয়ার ট্রেড করতে বিভিন্ন রকম পড়াশোনা বা জ্ঞান থাকা দরকার। আর হাজার কারেন্সি এবং পেয়ারের ভীরে আপনার কোনগুলো ট্রেড করা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে বা কিভাবে এগোতে পারেন তাই নিয়েই এ আলোচনা। যেহুতু আপনি ফরেক্স ট্রেড করছেন, তাই আপনার সামনে যতরকমের সুযোগ আছে ট্রেড করার, সবগুলো সম্পর্কেই আপনার জানা উচিত।

EURUSD এবং GBPUSD এর পাশাপাশি আরোও দুটি গুরুত্বপূর্ণ পেয়ার ফরেক্স ট্রেডারদের বেশ পছন্দের। কিন্তু অনেক ট্রেডাররাই এই পেয়ার ২টিকে গুরুত্ব দেন না। পেয়ার দুটি হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ান ডলার/ মার্কিন ডলার (AUD/USD) এবং নিউজিল্যান্ড ডলার/মার্কিন ডলার (NZD/USD)। মজার ব্যাপার হচ্ছে, নিউজিল্যান্ড ডলার এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলার উভয়ই ফরেক্স মার্কেটে অন্যতম ২টি বেশ পরিবর্তনশীল কারেন্সি পেয়ার। তাই বুঝতেই পারছেন, বুঝে শুনে কোপ মারতে পারলে লাভও বেশ ভালোই করা সম্ভব এই পেয়ারগুলোতে। নতুন পেয়ার ট্রেড করতে গেলে প্রথমে নিশ্চিত করে নেয়া জরুরী যে আপনার ফরেক্স ব্রোকার আপনাকে উক্ত পেয়ার দুটিতে ট্রেড করার সুযোগ দিচ্ছে কিনা। এই পেয়ার ২টি মেজর পেয়ার বিধায় প্রায় সব ব্রোকারেই AUD/USD এবং NZD/USD ট্রেড করা যায়। XM ব্রোকারে এই পেয়ার দুটির স্প্রেড অন্য ব্রোকারগুলোর তুলনায় বেশ কম।

বর্তমান মার্কেটের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ান ডলার এবং নিউজিল্যান্ড ডলার দুটি কারেন্সিই ট্রেড করার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গ্লোবাল ইকুইটি বৃদ্ধির সাথে সাথে, বিশেষ করে ইউএস এবং চায়নার স্টক মার্কেটে পরিবর্তনের ফলে ফরেক্স মার্কেটেও পরিবর্তনের সুযোগও বেশি তৈরি হয়। তাই ফরেক্সে বিনিয়োগকারীরা সেফ হেভেন কারেন্সি যেমন আমেরিকান ডলার, জাপানিজ ইয়েন, সুইস ফ্র্যাঙ্ক ইত্যাদি থেকে সরে এসে বেশি লাভ হতে পারে এমন কারেন্সি যেমন Aussie (অস্ট্রেলিয়ান ডলার) এবং Kiwi (নিউজল্যান্ড ডলার) এর প্রতি আকৃষ্ট হয়।

এছাড়াও, বিভিন্ন গবেষনামূলক প্রতিবেদনে দেখা গেছে , প্রধান প্রধান কারেন্সিগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফান্ডামেন্টাল দিক থেকে বেশ স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা চললেও অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়েনি। রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া স্বভাবতই তাদের সুদের হার একটু বেশী রেখেছিল যেটা মূলত অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে সহায়তা করেছে। গোল্ড ট্রেডারের কাছেও কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ডলার খুবই গুরুত্ব পায়, কারণ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দামও বৃদ্ধি পায় কারণ স্বর্ণ রপ্তানিতে অস্ট্রেলিয়া অন্যতম বৃহতম দেশ।

কিউই (Kiwi) অর্থাৎ নিউজিল্যান্ড ডলার বেশ প্রাধান্য পায় কারণ এর মূল্য স্টক প্রাইসের সাথে সম্পর্কযুক্ত। S&P 500 ইন্ডেক্স ওপরের দিকে গেলে, নিউজিল্যান্ড ডলার (Kiwi) মার্কিন ডলারের (USD) বিপরীতে শক্তিশালী হয়। তাই ফরেক্স ট্রেডাররা নতুন পেয়ার নির্বাচনের সময় NZD/USD পেয়ারটিকে তাদের তালিকায় রাখতে পারেন। কমোডিটিগুলোর চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও নিউজিল্যান্ড ডলারের দাম বৃদ্ধি পায়, যদিও নিউজিল্যান্ড বিশেষ কোন কমোডিটি উৎপাদন বা রপ্তানীর জন্য বিখ্যাত নয়।

পরিশেষে বলা যায়, যদি আপনি ফরেক্স ট্রেড করেই থাকেন, তাহলে সচরাচর ট্রেডকৃত পেয়ারগুলোর পাশাপাশি অন্য কোন পেয়ার ট্রেড করলে লাভ করা যেতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর সেদিক থেকে AUD/USD এবং NZD/USD পেয়ার দুটি আপনার চার্টে ওপরের দিকে রাখার কথা ভাবতে পারেন।