1 of 2

ফরেক্স ট্রেড করতে হলে ডলার সম্পর্কে যা যা আপনার জানতে হবে

ধরুন, আপনি মাছের ব্যবসা করবেন। এখন, কি মাছ চাষ করবেন, তা সম্পর্কেই যদি ভালোমত না জানেন, তাহলে কি কখনও লাভ করতে পারবেন? তাহলে, ফরেক্স ট্রেডিং করতে গিয়ে যদি ডলার, ইউরো বা পাউন্ডসহ প্রধান কারেন্সিগুলো সম্পর্কে ভালো করে না জানেন, তাহলে তো সেই মাছের ব্যবসার মতই লস খাবেন। কারন, প্রতিটি কারেন্সিরই কিছু নির্দিস্ট বৈশিষ্ট রয়েছে, প্রত্যেকটি কারন্সি অন্যগুলো থেকে অনন্য। কারেন্সিগুলোর সাথে যত বেশি পরিচিত হবেন, যত বেশি জানবেন, ততই ফরেক্স মার্কেটের অবাক করা অপ্রত্যাশিত মার্কেট মুভমেন্টগুলো আস্তে আস্তে আপনি আগে থেকেই অনুমান করতে পারবেন। বিডিপিপসে ইতিমধ্যেই প্রধান সব কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ে আলাদাভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এবার আলোচনা করা হবে প্রধান কারেন্সিগুলো নিয়ে। আর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আর জনপ্রিয় কারন্সি যেহেতু ডলার, তাই ডলার সম্পর্কে প্রত্যেক নতুন ফরেক্স ট্রেডারের যা যা জানা উচিত তাই নিয়ে এই পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে।

ডলার কি?

ডলার কি সেটাতো আমরা সবাই জানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারেন্সি বা মুদ্রা। মজার বিষয় হচ্ছে, অনেকগুলো দেশের কারেন্সির নামের মধ্যে কিন্তু ডলার আছে, যেমনঃ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, নিউজিল্যান্ড ডলার, কানাডিয়ান ডলার। তাহলে, আমেরিকার কারেন্সির নাম আমেরিকান ডলার না হয়ে শুধু ডলার হল কেন? মজার একটা প্রশ্ন, উত্তরটা কি আপনার জানা আছে?

আসুন, ডলার সম্পর্কে আরো জানি

ফরেক্স মার্কেটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রা কোনটি, এ প্রশ্নটি যদি করা হয়, তবে তার উত্তর হবে ডলার। ডলার বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুদ্রা। বিশ্ব মার্কেটে যত মুদ্রা লেনদেন করা হয় তার কিন্তু প্রায় অর্ধেকই হয় ডলারের মাধ্যমে।বাংলাদেশ আমেরিকার থেকে কিছু কিনবে? ডলারে কিনতে হবে। কিছু বিক্রি করবে? তাও, সেই ডলারেই বিক্রি করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বাদ দিন, ভারতের সাথে কেনাকাটা করতেও ডলারই ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশের টাকা বা ভারটের রুপি না। কেন? ডলার বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে একমাত্র স্বীকৃত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি আপনার চারিপাশে তাকালেই ডলারের প্রভাব দেখতে পাবেন। ধরুন আপনি বাংলাদেশ থেকে ভ্রমন করতে ইন্ডিয়া অথবা নেপাল যাবেন। আপনি কিন্তু সরাসরি ইন্ডিয়ান বা নেপালি রুপি নিতে পারবেন না। আপনাকে বাংলাদেশ থেকে ডলার কিনে নিয়ে যেতে হবে। তারপর সে দেশে গিয়ে ঐ দেশের মুদ্রায় রুপান্তর করতে হবে। এভাবে আপনি যে দেশেই যান না কেন, ডলার কারেন্সিটি সর্বজন স্বীকৃত। তাছাড়া বিশ্বের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই ডলারও মার্কেটে প্রায় সবসময় শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে থাকে। ডলারের এত বুহুল ব্যবহারের পেছনে শুধু অর্থনীতিক শক্তিই না, রাজনৈতিক প্রভাবও আছে। আর সেকারনেই চীনের অর্থনীতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের মতই শক্তিশালী হলেও ইউয়ান কিন্তু কোথাও সেভাবে ব্যবহৃত হয় না। আর একারনেই ডলার অনন্য।

তবে ডলারের অবস্থান আগে এতটা শক্তিশালী ছিলো না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে ব্রিটিশ পাউন্ডের অবস্থান খুব শক্তিশালী ছিল। তবে ব্রিটিশ পরাশক্তি দুর্বল হওয়ার সাথে সাথে যুদ্ধ পরবর্তী অর্থনৈতিক অবস্থা ডলারের উপর নির্ভরশীল হতে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে ডলারের গুরুত্ব বাড়তে থাকে।

যে বিষয়গুলো ডলারকে প্রভাবিত করে

ফরেক্স মার্কেটে এক্সচেঞ্জ রেট বা বিনিময়ের হার ভবিষ্যতে কোনদিকে যাবে তা ধারনা করার জন্য অনেকভাবেই অ্যানালাইসিস করা হয়। এগুলো সুদের হার, প্রাইস লেভেল ইত্যাদি আরও অনেক কিছুর ভিত্তিতে অ্যানালাইসিস করা হয়। এ বিষয়গুলো মার্কেটে সরাসরি প্রভাব না ফেললেও, ট্রেডাররা এ বিষয়গুলোকে বিবেচনা করে থাকে ট্রেডের সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। তাই মার্কেটে এই বিষয়গুলো ভালো প্রভাব ফেলে। অন্যভাবে বলতে গেলে, ফরেক্স মার্কেটে কারেন্সিগুলো আর দশটা পণ্যের মতই আচরন করে। ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের ব্যাপারগুলো প্রাইস বাড়তে-কমতে প্রভাব ফেলে।

বিশ্বব্যাপী ডলার কেন্দ্রীক ব্যবসায়িক লেনদেনগুলোই প্রধানত ডলারের চাহিদা নিয়ন্ত্রন করে, যেহুতু ব্যবসায়িরা ডলারের মাধ্যমেই তাদের ব্যবসার লেনদেনগুলো করে থাকে। অর্থনৈতিক বিভিন্ন ডাটার মাধ্যমেও মুদ্রার বিনিময় হার প্রভাবিত হয়। প্রতিনিয়তই দেশের অর্থনীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্ট, স্ট্যাটিস্টিক্স,ডাটা প্রকাশিত হয় যা দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা বোঝা যায়। এই ডাটাগুলোর ফলাফল আমেরিকার অর্থনীতির ইতিবাচক বা নেতিবাচক যেই অবস্থা নির্দেশ করে, তার কারনেও ডলার প্রভাবিত হয়। তাই ট্রেডারদের এ ধরনের নিউজ, ডাটা, রিপোর্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে যেমন – NFP (নন ফার্ম পে রোল রিপোর্ট), বেকারত্ব হারের রিপোর্ট, জিডিপি, ট্রেড ব্যালেন্স, মুদ্রাস্ফিতি ইত্যাদি। এ ধরনের বিষয়গুলো সম্পর্কে ট্রেডাররা ইন্টারনেটে যথেষ্ট পরিমান তথ্য এবং অ্যানালাইসিস পেতে পারে যা তাদের ট্রেডিং করতে আরও সহায়তা করবে। এছাড়া কেন কোন নির্দিষ্ট ডাটার ফলাফল ভাল বা খারাপ আসলো, ভবিষ্যতে কেমন হতে পারে, এসব সম্পর্কেও ট্রেডাররা এসব অনুসরন করলে জানতে পারবে।

২০১১ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতীক স্বচ্ছলতা এবং ক্রমগত ঋণ এবং বাজেট ঘাটতির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য প্রদানের অক্ষমতার কারনে মার্কিন ডলারের উপর কিছুটা প্রভাব পড়ে। কংগ্রেস তখন সুষম বাজেট এবং ঋণ কমানোর ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করে, তবে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতে অত্যাধিক খরচ এবং বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানকে তরান্বিত করার জন্য অর্থের সহজ নীতিমালা ডলারকে দুর্বল করে ফেলে। সে সময়ে গোল্ড অনেক শক্তিশালী হয়।

বিশ্বের ভালো-মন্দ নানা ঘটনার দ্বারাও মার্কিন ডলার প্রভাবিত হয়ে থাকে। আমরা অতীত ইতিহাসের দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই , বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরাজমান নানা বিশৃঙ্খলা যেমন, যুদ্ধ, রাজনৈতীক বা অর্থনৈতীক অস্থিরতা মার্কিন ডলারকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা পালন করে। অপরপক্ষে, বিশ্বের অবস্থা যখন শান্তিপূর্ণ থাকে তখন ট্রেডাররা আমেরিকার অর্থনীতির অবস্থা আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করে এবং প্রয়োজনে তারা ডলারের বিকল্প মুদ্রার দিকে ধাবিত হয়।

হোম
নিউজ
ট্রেডিং স্কুল
ব্রোকার
সিগন্যাল
ক্লাব
Scroll to Top