চলুন জেনে নেই ফরেক্স সম্পর্কে কয়েকটি মজার তথ্য

যুক্তরাজ্য হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফরেক্স মার্কেট

আপনি হয়ত ভেবে বসে আছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফরেক্স ট্রেডিং মার্কেট। নিউইয়র্কেই যেহেতু বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টক মার্কেট অবস্থিত, আর সারা বিশ্ব যেভাবে অধীরভাবে ফেডের ইন্টারেস্ট রেট, NFP, FOMC এর জন্য অপেক্ষা করে, এমনটা ভাবা ভুল নয় বৈকি! কিন্তু, মজার ব্যাপার হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র (US) নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফরেক্স ট্রেডিং মার্কেট হচ্ছে যুক্তরাজ্য (UK). সারা বিশ্বের সব ফরেক্স ট্রানজেকশনের ৪১ শতাংশই যুক্তরাজ্যে হয়ে থাকে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে হয় মাত্র ১৯ শতাংশ। তবে, ব্রেক্সিটের পর কতদিন যুক্তরাজ্য তার রাজত্ব বহাল রাখতে পারে, সেটা দেখার বিষয়। কেননা, ইউরোর অধিকাংশ মার্কেট লেনদেনই বর্তমানে লন্ডনে হয়ে থাকে, যা ব্রেক্সিটের পর অবধারিতভাবেই কমে আসবে।

ফরেক্স মার্কেটে সবচেয়ে বৃহৎ প্রতিযোগী হচ্ছে ডয়েচে ব্যাংক (Deutsche Bank)

এটাতো মোটেই অজানা নয় যে, ফরেক্স মার্কেটে আপনি প্রতিযোগিতা করছেন বড় বড় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে। স্বভাবতই বড় বড় ব্যাংকগুলো ফরেক্স মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ট্রানজেকশন করে থাকে। কিন্তু, জার্মানির ডয়েচে ব্যাংক একাই এই ফরেক্স মার্কেটের ১৪.৬ শতাংশ শেয়ার দখল করে রেখেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন ফরেক্স মার্কেটে যত ট্রানজেকশন হয়, গড়ে তার ১৪ শতাংশই হয়ে থাকে ডয়েচে ব্যাংকের মাধ্যমে। ১২.৩ শতাংশ নিয়ে এর পরেই আছে আমেরিকার সিটি ব্যাংক (Citi)। তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্যের বার্কলে (Barclays) ব্যাংক ১০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে। ভাবছেন, তিনটি ব্যাংক মিলেই যদি মার্কেটের প্রায় ৪০ শতাংশ দখল করে রাখে, তাহলে বাকি লাখ লাখ ট্রেডারদের মধ্যে আপনার শেয়ার কতটুকু? অবাক হওয়ার আরও বাকি আছে। ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে বড় ১০ টি প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানই দখল করে রেখেছে মার্কেটের ৮০ শতাংশ। আমি বা আপনার মত চুনোপুটিদের (!) দখলে মার্কেটের ০.০০০১% ও নেই। তাই আমার বা আপনার মত রিটেইল ট্রেডাররা মার্কেটকে প্রভাবিত করতে পারেনা বললেই চলে।

আধুনিক ফরেক্স যুগের সুচনা হয়েছিল ১৯৭৩ সালে

ফরেক্সের প্রাচীন ইতিহাস থাকলেও আধুনিক ফরেক্স যুগের সুচনা হয়েছে মাত্র ৪২ বছর আগে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মাত্র ২ বছর পরে, অর্থাৎ ১৯৭৩ সালে নিয়ন্ত্রিত কারেন্সি এক্সচেঞ্জ রেটের সমাপ্তি ঘটে। সূচনা হয় পরিবর্তনশীল কারেন্সি রেটের, যার ফলে কারেন্সির ভ্যালু প্রতিনিয়ত বাড়া কমার সুযোগ বা ট্রেড করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

১৯০৮ সাল পর্যন্ত যেকোন আমেরিকান ব্যাংক চাইলেই কারেন্সি প্রিন্ট করতে পারত

অদ্ভুত হলেও সত্যি, ১৯০৮ সালের আগে যেকোন আমেরিকান ব্যাংক চাইলেই নিজেদের মত করে ডলার প্রিন্ট করতে পারত। আর এর সমাপ্তি ঘটে ফেডের সূচনার মধ্যে দিয়ে।

পাউন্ডই একসময় ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী কারেন্সি ছিল

এখন আর নেই। ডলার যে বর্তমানে ফরেক্স মার্কেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী কারেন্সি, তা আমরা সবাই জানি। তবে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, পাউন্ডের রাজত্ব ছিল ফরেক্স মার্কেটে। সেই সময়ে বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি ফরেক্স ট্রেডিং হত পাউন্ড ব্যবহার করে।

GBP/USD কে যেকারনে ‘কেবল’ নামে ডাকা হয়

আগের দিনে তো আর এখনকার মত স্যাটেলাইট বা ফাইবার অপটিকস ছিল না। ল্যান্ডলাইন ফোনের যুগে টেলিফোনের তার বা কেবলই ছিল ভরসা। কিন্তু, অনেক দূরের জায়গাগুলোর মধ্যে কেবল বা তারের নেটওয়ার্ক স্থাপনও সহজসাধ্য ছিল না। লন্ডন ও নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে তখন দ্রুত যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হত ষ্টীলের কেবল। লম্বা এই ষ্টীলের কেবল টেনে নিয়ে যাওয়া হয়ে ছিল আটলান্টিক সাগরের নিচ দিয়ে। মূলত, সেখান থেকেই GBP/USD এর নামকরন হয় কেবল। (উল্লেখ্য, GBP হচ্ছে লন্ডন তথা যুক্তরাজ্যের কারেন্সি এবং USD হচ্ছে নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের কারেন্সি)।