মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ৬০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৮.৩% এসেছে। এক্ষেত্রে আরও ভাল ও দ্রুত কী করা যেতে পারে এ সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

বাইডেন উত্তরে বলেন, মুদ্রাস্ফীতির হার মাস থেকে মাস মাত্র এক পার্সেন্ট বেড়েছে, যা খুবই কম। বাইডেন আরও বলেন, আমি বলছি না যে ৮.৩% মুদ্রাস্ফীতি ভাল তবে আগের মাসের ৮.২%-এর তুলনায় খুবই কম। মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি হার ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে স্বীকার করে প্রেসিডেন্ট বলেন: আমরা এমন একটি অবস্থানে আছি যেখানে গত কয়েক মাস ধরে মুদ্রাস্ফীতি তেমন বৃদ্ধি পায়নি।

মার্কিন অর্থনীতি খারাপ হতে চলেছে কিনা জানতে চাইলে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন: আমি তা মনে করি না। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস অব্যাহত থাকবে কিনা সে বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেছেন: আমি আমেরিকান জনগণকে বলছি আমরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছি। এক্ষেত্রে আমি দীর্ঘ সময়ের চেয়ে বেশি আশাবাদী।

এছাড়াও প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করে বলেন, আমাদের প্রেসক্রিপশন ঔষধের প্রাইস অনেক কমতে শুরু করেছে। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমতে শুরু করেছে। যা মুদ্রাস্ফীতি লাগামের ক্ষেত্রে ভাল দিক হতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতি বাড়েনি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এমন মন্তব্য নিয়ে অনেক জণগণ সমালোচনা করে টুইটে বলেন, তিনি যখন ক্ষমতায় আসে তখন মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১.৪%। সেখান থেকে ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের অর্থনীতিবিদ এবং রিসার্চ ফেলো জোয়েল গ্রিফিথ গ্যাস, খাবার ও আসবাবপত্রের প্রাইস উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এমন আইটেমের একটি তালিকা টুইট করেছেন।

সাধারণ জণগণের সাথে রাজনীতিবিদরাও সমালোচনায় অংশ নেন। ইন্ডিয়ানার কংগ্রেসের প্রার্থী জেনিফার-রুথ গ্রিন টুইট করেছেন: জো বাইডেন যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন মুদ্রাস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৪% এবং ১৯ মাস পরে তা বেড়ে ৮.৩% হয়েছে।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমেরিকানরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং তার ভুলের জন্য দায় নেওয়ার পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট শুধু চান সমস্যাটি চলে যাক যাতে তিনি তার দলকে মধ্যবর্তী মেয়াদের পরে ক্ষমতায় রাখতে পারেন।

রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারপারসন রোনা ম্যাকড্যানিয়েল বলেন: গতকাল বাইডেন বলেছিলেন আমেরিকানদের মুদ্রাস্ফীতির দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে এবং তা নিয়ন্ত্রনে যথেষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।

জিম বোগনেট পেনসিলভনিয়ায় কংগ্রেসের প্রার্থী লেখেন: জো বাইডেন, ন্যান্সি পিলোসি ও ম্যাট কার্টরাইট মনে করেন তাদের কাছে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৩% গ্রহণযোগ্য। তিনি আরও বলেন, এর ফলে আমেরিকার অর্থনীতি ক্র্যাশ হচ্ছে।

প্রাক্তন সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও মতামত দিয়েছেন: প্রেসিডেন্ট বাইডেন হয়তো ভাববেন না যে মুদ্রাস্ফীতি একটি বড় ব্যাপার। তবে প্রত্যেক আমেরিকান নাগরিক যারা মুদির দোকানে কেনাকাটা করে তারা বাইডেনের নীতির বিধ্বংসী প্রভাব জানে।

জে ক্লেটন, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) প্রাক্তন চেয়ারম্যান সিএনবিসি-তে মন্তব্য বলেন, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে প্রতি পরিবারের গড় খরচ প্রতি মাসে ৫০০ ডলার বেড়ে যাচ্ছে। এ সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের দিকে চোক থাকবে সকল বিনিয়োগকারীদের।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখ ইন্টারেস্ট রেট ২.৫% থেকে বৃদ্ধি করে ৩.২৫% করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেট বৃদ্ধি ক্রিপ্টো মার্কেট ক্র্যাশের অন্যতম কারণ হতে পারে।

ব্যাংকের রেট বৃদ্ধি ফরেক্স মার্কেটে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম কারণ হতে পারে।  প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ডলারের প্রাইস বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য কারেন্সিগুলো ডলারের বিপরীতে দুর্বল অবস্থানে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

হোম
নিউজ
ট্রেডিং স্কুল
ব্রোকার
সিগন্যাল
ক্লাব
Scroll to Top