কনটেন্টে যান




Ads by Bdpips    Forex VPS     Neteller Mastercard     Like Crude Oil?     MT4 for Android     VPS Service


বিডিপিপস বাংলাদেশের সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ বাংলা ফরেক্স কমিউনিটি এবং বাংলা ফরেক্স স্কুল। বিডিপিপস কাউকে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে অনুপ্রাণিত করে না। ফরেক্স ট্রেডিং একটি ব্যবসা এবং উচ্চ লিভারেজ নিয়ে ট্রেড করলে তাতে যথেষ্ট ঝুকি রয়েছে। যারা ফরেক্স ট্রেডিংয়ের যাবতীয় ঝুকি সম্পর্কে সচেতন, বিডিপিপস শুধুমাত্র তাদের ফরেক্স শেখা এবং উন্নত ট্রেডিংয়ের জন্য সহযোগিতা প্রদান করার চেষ্টা করে। ফরেক্স সম্পর্কে কোন লোভনীয় বিজ্ঞাপনে প্রতারিত হবেন না। আপনার লস করার সামর্থ্য না থাকলে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।


Toggle shoutbox বিডিপিপস চ্যাট Open the Shoutbox in a popup

৩০% বোনাস সকল ডিপোজিটে

সবাই চ্যাটবক্স ব্যবহারে মিতভাষী হন। বিডিপিপস সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত কমিউনিটি। রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করার অসংখ্য ওয়েবসাইট রয়েছে। বিডিপিপসে রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা এবং অন্য ট্রেডারদের সাথে আক্রমণাত্মক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন।

Dr. Helping...  : (21 মে - 04:47 অপরাহ্ণ) @needmoney: SOTTI TAI
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:48 অপরাহ্ণ) Yes.......... Allah is Almighty !
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:50 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: ETO RISK NEA TRADE KORE SOFOLKAM HOEASE TAR MODDO APNE EKJON REALY ALLAH ALWAYS WITH U
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:51 অপরাহ্ণ) Dr. Helping... @ i pray Allah will b with U also ! Thanks.
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:53 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: wc
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:53 অপরাহ্ণ) Boss, bissas koren ba na koren, aj k 17 ti pairs er moddhe sudhu ekti pair er bazar poristhiti valo mone hosse....... ta holo EurTry pair's !
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:54 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: bor amar mote expart jekono 1ta ba 2 ta pair a howea balo
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:54 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: eurusd te sell close kore buy debo @ 1.2855
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:55 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: jodi next hr er candle 1.2855 er upore close hoi
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:55 অপরাহ্ণ) Dr. Helping... @ Boss ki korbo bolen ? din joto jasse Allah er rohomote Oviggotar jhuli o toto bere cholese !!!
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:57 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: sudu knowledge barle hobe na expart hote hobe emon expart hote hobe jate kore foreign country theke job korar offer pan
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:57 অপরাহ্ণ) Dr. Helping... @ Boss i thik it is not proper moment 4 any kind of scalping on EurUsd, Thanks.
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:58 অপরাহ্ণ) Dr. Helping... @ Boss ......... amar jonno apnader dowa dorkar !!!
Dr. Helping...  : (21 মে - 04:58 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: rules ta amar banano tai entry amake must detae hobe
Aminul islam  : (21 মে - 04:59 অপরাহ্ণ) boos apni bacle hoby amader o to bacte hoby ?
ForEx Fighter  : (21 মে - 04:59 অপরাহ্ণ) In Sha Allah , egie jete thaken . Allah vorosha !!!
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:00 অপরাহ্ণ) Dr. Helping... @ In Sha Allah , egie jete thaken . Allah vorosha !!!
Dr. Helping...  : (21 মে - 05:00 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: thanks
Dr. Helping...  : (21 মে - 05:01 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: goto kal ai rules onushare profit paise inshaa allah ajkew pabo
Aminul islam  : (21 মে - 05:01 অপরাহ্ণ) please kay help koren market ki barby na aro kmobby euro /usd ak dom mader
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:01 অপরাহ্ণ) Dr. Helping... @ May Allah bless U !
Dr. Helping...  : (21 মে - 05:02 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: ok bro allah haifz
Dr. Helping...  : (21 মে - 05:02 অপরাহ্ণ) balo thakben
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:02 অপরাহ্ণ) Aminul islam @ apni Scalper hole buddhi dite pari but LongTrader hole amar kace buddhi nai !
Aminul islam  : (21 মে - 05:03 অপরাহ্ণ) bolen
Sufi  : (21 মে - 05:03 অপরাহ্ণ) any idia about GBP/USD ?
Aminul islam  : (21 মে - 05:04 অপরাহ্ণ) no boos
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:04 অপরাহ্ণ) Aminul islam @ apni EurUsd te H4 dekhen, ei poristhitite kono scalping sujog thake na !!!
Aminul islam  : (21 মে - 05:05 অপরাহ্ণ) ta to thik kintu ki korar ?
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:08 অপরাহ্ণ) Sufi @ GbpUsd Sell pesar barce, But it is not moment 4 any kind of Entry 4 me now.
Sufi  : (21 মে - 05:11 অপরাহ্ণ) ok..bos... no buy also ?
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:12 অপরাহ্ণ) Aminul islam @ jodi EurUsd Sell die thaken tahole own ridk a arektu dhoirjo dhore dekhte paren !!!
Sufi  : (21 মে - 05:13 অপরাহ্ণ) ok..bosss
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:14 অপরাহ্ণ) Aminul islam @ ridk hobe na @ Risk hoybe ,,, Thanks.......
Anwar.Islam  : (21 মে - 05:15 অপরাহ্ণ) Sold eurcad and nzdusd .. both positive :)
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:19 অপরাহ্ণ) i think Today is no moment 4 Buy / Sell @ NzdUsd > Cause H4 & D1 eke onner biporit Signal 4 Scalping ! Thanks.
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:20 অপরাহ্ণ) Anwar.Islam @ i think Today is no moment 4 Buy / Sell @ NzdUsd > Cause H4 & D1 eke onner biporit Signal 4 Scalping ! Thanks.
Anwar.Islam  : (21 মে - 05:21 অপরাহ্ণ) @ForEx Fighter: I am not a scalpr bro ... I sold NU at 8185, it was a great setup!
Aminul islam  : (21 মে - 05:21 অপরাহ্ণ) mon karap akto gure ase allah upor sere dilam allah ja kore valor jonno ......................................
Anwar.Islam  : (21 মে - 05:22 অপরাহ্ণ) already in 40 pips profit in NU ..
ForEx Fighter  : (21 মে - 05:23 অপরাহ্ণ) Anwar.Islam @ May Allah is AlMighty bless U !
tonmoy  : (21 মে - 06:03 অপরাহ্ণ) :loveforex:
Sufi  : (21 মে - 06:16 অপরাহ্ণ) any news ?
ForEx Fighter  : (21 মে - 06:23 অপরাহ্ণ) http://bdpips.com/to...খানো-হয়/unread/
বাংলাপিপ  : (21 মে - 06:24 অপরাহ্ণ) :metalslug: :loveforex:
বাংলাপিপ  : (21 মে - 06:42 অপরাহ্ণ) b@ler timing. computer er shamne boshle market move korena
বাংলাপিপ  : (21 মে - 06:42 অপরাহ্ণ) ki move korlo atokkhon
Sufi  : (21 মে - 06:50 অপরাহ্ণ) any idea for GBP/USD ?
Anwar.Islam  : (21 মে - 07:12 অপরাহ্ণ) @Sufi: Strong downtrend, short term long setup possible
mannan  : (21 মে - 07:12 অপরাহ্ণ) hi

স্বপ্নিল's Photo

স্বপ্নিল

Member Since 13 জুন 2011
Offline Last Active এপ্রি 14 2013 02:01 পূর্বাহ্ণ
*****

Topics I've Started

FED - ১: Federal Reserve System কি? এবং কেন?

16 এপ্রিল 2013 - 07:00 অপরাহ্ণ

আমেরিকান কেন্দ্রিয় ব্যাংকের নাম হচ্ছে Federal Reserve System. তবে সংক্ষেপে ফেড নামে ডাকতেই সবাই একে বেশি পছন্দ করেন। ফরেক্স ট্রেড করছেন দীর্ঘদিন ধরে অথচ ফেডের নাম শুনেন নি, এরকম মানুষ কমই পাওয়া যাবে।

মূলত তিনটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ফেড প্রতিষ্ঠা করে :
  • সর্বোচ্চ কর্মসংস্থান
  • মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও
  • দীর্ঘমেয়াদী সুদের হারকে সহনীয় পর্যায়ে রাখা।
বিশ্বের আর সব দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংক এর সাথে ফেডের একটা মজার পার্থক্য হল, অন্য কেন্দ্রিয় ব্যাংকগুলো সরকারী মালিকানাধীন হলেও ফেডে সরকারি ও বেসরকারি, উভয় খাতেরই অংশীদারিত্ত আছে। আর তাই, শুধু সাধারণ জনগণ নয়, প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর স্বার্থও ফেড দেখে থাকে। সেই যে বলা হয়ে থাকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ক্ষমতা এখন আর জনগনের হাতে নেই, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে চলে গেছে, তা বোধকরি মিথ্যা নয়। কারন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ও অংশীদারিত্ব আছে, এমন কেন্দ্রিয় ব্যাংক বিশ্বে একটাই আছে, তা হচ্ছে ফেড।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে



তবে ফেড প্রতিষ্ঠার পেছনের ইতিহাস কিন্তু তেমন সুখকর নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু গভীর সংকটজনক অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপেক্ষিতেই ফেডের উৎপত্তি। এ নিয়ে না হয় আরেকদিন লিখব। তার আগে দেখে নেয়া যাক কারা আছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কেন্দ্রিয় ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদেঃ

কারা পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের এই কেন্দ্রিয় ব্যাংকে?

ফেড গঠন প্রণালীতে রয়েছে বিভিন্ন কমিটি (বোর্ড অফ গভর্নর'স, এফওএমসি), যুক্তরাষ্ট্রের ১২ টি আঞ্চলিক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, অসংখ্য বেসরকারি ব্যাঙ্ক ও বিভিন্ন উপদেষ্টা কাউন্সিল।

বোর্ড অফ গভর্নর'স

ফেডের মূল পরিচালনা পর্ষদ হচ্ছে ফেডারের রিজার্ভ বোর্ড অফ গভর্নর'স। সাত সদস্য বিশিষ্ট এই বোর্ডের সবাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কতৃক নিয়োগপ্রাপ্ত। ফেডের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কে হবেন তাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঠিক করে দেন, যদিও এর জন্য সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। প্রতিবার ২ বছর করে একজন সদস্য সর্বোচ্চ ১৪ বছর বোর্ড অফ গভর্নর'স এ থাকতে পারেন।

তবে প্রেসিডেন্ট কত্রিক নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও ফেডের প্রেসিডেন্ট তার নেয়া সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

বোর্ড অফ গভর্নর'স এর কাজ কি?

আগেই বলা হয়েছে যে, বোর্ড অফ গভর্নর'স হচ্ছে ফেডের মূল পরিচালনা পর্ষদ। তাই বিশাল দায়িত্ব তাদের উপর। সাধারণভাবে ফেডের সকল কার্যক্রম ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং সিস্টেম তদারকি ও নিয়ন্ত্রন করা এই বোর্ডের দায়িত্ব। এছারাও এই বোর্ডের সকল সদস্য এফওএমসি কমিটিতে রয়েছেন এবং দেশের আর্থিক নীতি কি হবে, তা তারাই নির্ধারণ করে থাকেন।

বোর্ড অফ গভর্নর'স সম্পর্কে তো জানলেন। এর বাইরেও ফেডের একটি শক্তিশালী কমিটি হচ্ছে এফওএমসি (FOMC)।

এফওএমসি (FOMC)

এফওএমসি (FOMC) বা ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি হচ্ছে ফেডের আরেকটি শক্তিশালী কমিটি। মোট বার জন সদস্য নিয়ে এই কমিটি গথিত। ফেডের বোর্ড অফ গভর্নর'স এর সাতজন সদস্যই রয়েছেন এই কমিটিতে। বাকি পাঁচজন সদস্য নির্বাচিত হন যুক্তরাষ্ট্রের ১২ টি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে থেকে। নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট সবসময়ই থাকেন এই কমিটিতে, বাকি ১১ টি ব্যাংকের প্রেসিডেন্টদের মধ্যে থেকে ৪ জন পর্যায়ক্রমে প্রতি বছর কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন।

কমিটির কাজ

এফওএমসি কমিটি প্রতি বছর সাধারণত ৮ বার বৈঠকে বসে প্রতি ৫ থেকে ৮ সপ্তাহ অন্তর অন্তর। নানা বিধ কারনেই ফরেক্স ট্রেডারদের কাছে এফওএমসি মিটিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ নিয়ে বিস্তারিত থাকবে পরের পোষ্টে। ফান্ডামেন্টাল অ্যানালাইসিসের বেসিক নিয়ে বিডিপিপসে শীঘ্রই আসছে নতুন কিছু পোস্ট।

ক্রস কারেন্সি পেয়ার

09 জানুয়ারি 2013 - 11:59 পূর্বাহ্ণ

মেটাট্রেডার ওপেন করে বসে আছে শুভ্র। ঘুম থেকে উঠে প্রতি সকালেই এ কাজটা করে সে। আজকে তার মনটা বেশ ভালো। কারন, তার ট্রেডিং সিস্টেম বেশ কয়েকটি পেয়ারে শক্তিশালী বাই সিগন্যাল দিচ্ছে।

"কিন্তু কোন পেয়ারটি ট্রেড করবো? মনে তো হচ্ছে EUR/USD ও বাড়বে, GBP/USD ও বাড়বে । দুটো ট্রেড ওপেন করবো নাকি একসাথে?"

পরক্ষনেই সে চিন্তা ঝেড়ে ফেলল সে। এক সাথে দুটো ট্রেড লসে থাকলে মাথা ঠিক মত কাজ করে না তার। তাই, বেশ কিছুদিন হয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরবর্তী ছয় মাস একসাথে দুটো ট্রেড করবে না।

আবার চার্টের দিকে তাকাল শুভ্র। নাহ, কোনটা যে বেশি বাড়তে পারে, কিছুতেই বোঝা যাচ্ছে না। এমন কিছু নেই কেনো যেটা দিয়ে বোঝা যায় EUR/USD নাকি GBP/USD, কোনটা বেশি বাড়বে?


ক্রিং ক্রিং ক্রিং। হটাত করে ঘুম ভাঙ্গলে এমনিতেই অসহ্য বোধ করে আসলাম। তার মধ্যে শুক্রবার দিন সাত সকালে শুভ্রর ফোন। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো আসলামের।

কি হল পাগলা? এত সকালে ফোন কেনো?

- দোস্ত, ট্রেডিং সিস্টেম তো বলছে বাই দিতে

তো বাই দে, আমি মানা করছি নাকি।

-বাই তো দিতে চাই, কিন্তু ইউরো/ইউএসডি নাকি জিবিপি/ইউএসডি, কোন পেয়ারে দিবো বুঝতে পারছি না।

দুটো পেয়ারেই দিয়ে দে।

- আরে নাহ। একটা বাই দিবো। কোনটাতে দিবো, বলনা প্লিজ।

মর শালা। বেকায়দায় পড়ল আসলাম। গতকালই কেএফসিতে বসে শুভ্রর সামনে ফরেক্স নিয়ে অনেক জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছে সে। এখন, কিছু বলতে না পারলে প্রবলেম। আবার, ভুল কিছু বললে পরে ইজ্জতের বেলুনটাই ফুটো হয়ে যাবে। তাই, প্লান করল পাশ কাটাবার।

তোকে না কতদিন বলেছি সিগন্যাল চাইবি না? ফরেক্স মার্কেট কি আমি মুভ করাই যে সাজেশন দিবো তুই কোনটা বাই করবি? ট্রেডিং সিস্টেম যেটা বাই করতে বলে, সেটাই কর।

- ট্রেডিং সিস্টেম তো দুটোই বাই করতে বলে। তুই বল, কোনটা বাই করব। নাছোড়বান্দা শুভ্র।

ভ্রু কুচকালো আসলাম। শুভ্র ব্যাটা তো দেখছি সহজে ছাড়ার পাত্র নয়। কি করা যায়, কি করা যায়, ভাবতে ভাবতেই মাথায় এলো ক্রস কারেন্সির ব্যাপারটা। প্লান করলো, এটা বুঝিয়েই কোনো মতে শুভ্রর হাত থেকে রেহাই পেতে হবে আজকে।

শোন এক কাজ কর। পিচ্চিপিপস.কম এ ক্রস কারেন্সি নিয়ে একটা লেখা আছে। ওইটা পড়। তাহলে তুই বুঝতে পারবি কোনটা ট্রেড করবি, এখন আর জ্বালাইস না। অনেক রাত্রে ঘুমাইছি।


এক মুহূর্ত দেরী নয়া করেই পিচ্চিপিপস খুলল শুভ্র। ক্রস কারেন্সি কি সেটা জানা ছিল না। আজকেই জানতে হবে।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে




ক্রস কারেন্সি পেয়ার কি?

ফরেক্সে মেজর কারেন্সি পেয়ারগুলো হচ্ছে ডলার বেইজড। যেমনঃ EUR/USD, GBP/USD, USD/JPY, AUD/USD ইত্যাদি। লক্ষ্য করুন, এগুলোর প্রত্যেকটিতেই কিন্তু দুটো কারেন্সির একটি হচ্ছে ডলার (USD)

যখন একটি কারেন্সি পেয়ারের দুটো কারেন্সির কোনটিই ডলার নয়, তখন তাকে বলা হয় ক্রস কারেন্সি পেয়ার বা কারেন্সি ক্রস পেয়ার। অনেকে, আদর করে শুধু ক্রস নামেও ডাকে।

নামেই পরিচয়

একটা সময় ছিল যখন একটি কারেন্সির বিপরীতে ডলার ছাড়া সরাসরি আরেকটি কারেন্সি ট্রেড করা যেতো না। উদাহরনস্বরূপ, ইউরোকে পাউন্ডে কনভার্ট করতে হলে প্রথমে একে ডলারে কনভার্ট করতে হতে (EUR/USD এর রেট অনুসারে) এবং তারপর আবার ডলারকে পাউন্ডে (GBP) রুপান্তরিত করতে হত। (GBP/USD এর রেট অনুসারে)। .ক্রস কারেন্সি পেয়ার চলে আসায় এখন আর এই ঝামেলা রইল না। চাইলেই আপনি ইউরোকে পাউন্ড অথবা অন্য কোন মুদ্রায় রূপান্তরিত করতে পারবেন।

কয়েকটি জনপ্রিয় ক্রস কারেন্সি পেয়ারঃ EUR/JPY, GBP/JPY, EUR/GBP ইত্যাদি।

ক্রস কারেন্সি পেয়ারের সুবিধা কি?

ক্রস কারেন্সি পেয়ারগুলো চলে আসায় অনেক সুবিধা হয়েছে ফরেক্স ট্রেডারদের।

প্রথমত, আপনি এখন অনেক বেশি কারেন্সি পেয়ার ট্রেড করতে পারছেন। সাতটা ডলার বেইজড পেয়ারের ক্রস কারেন্সি পেয়ার হতে পারে ২১ টি, মানে মোট ২৮ টি। ডলার বেইজড পেয়ার যত বাড়বে, ক্রস কারেন্সি পেয়ারও তত বাড়বে।

ধরুন, আপনার ট্রেডিং সিস্টেম ডলার বেইজড পেয়ারগুলোর জন্য কোন সিগন্যাগ দিচ্ছে না কিন্তু কোন একটি ক্রস পেয়ারে শক্তিশালী সিগন্যাল দিচ্ছে। তাহলে, আপনি বেকার না বসে থেকে ওই কারেন্সি পেয়ারটি ট্রেড করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, কোন কারেন্সিটি বেশি শক্তিশালী তা বের করা

আসলাম শুভ্রকে এটাই দেখতে বলেছিল। চলুন দেখি কি সেটা।

ধরুন, EUR/USD এবং GBP/USD, দুটি পেয়ারই বাই সিগন্যাল দেখাচ্ছে। তার মানে, দুটোই বাড়বে। কিন্তু, কোন পেয়ারটি বেশি বাড়তে পারে? তার একটা ধারনা পাওয়া যায় যদি আপনি EUR/GBP পেয়ারটির দিকে তাকান।

যদি EUR/GBP আগের থেকে শক্তিশালী হয় বা বৃদ্ধি পায়, তার মানে, EUR, GBP বা পাউন্ড থেকে শক্তিশালী এই মুহূর্তে। তাই, EUR/USD , GBP/USD থেকে বেশি বাড়তে পারে।

আর যদি EUR/GBP আগের থেকে দুর্বল হয়, তার মানে GBP, EUR থেকে বেশি শক্তিশালী হচ্ছে যার মানে, GBP/USD বাই দেয়া শ্রেয়।

এভাবে ক্রস পেয়ার ব্যবহার করে দুটো মেজর কারেন্সির মধ্যে তুলনামূলক বেশি কোনটি শক্তিশালি তা সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না, আপনি যদি কোন পেয়ার ট্রেড করবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে থাকেন, তাহলে ক্রস কারেন্সি পেয়ার সেক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

তৃতীয়ত,

ধরুন, আপনি মনে করছেন আজকে ইউরো দুর্বল হবে কেননা ইউরো জোন থেকে একের পর এক দুঃসংবাদ আসছে। অপরদিকে, যুক্তরাজ্য সুদের হার মাত্র বৃদ্ধি করল, মানে নিঃসন্দেহেই শক্তিশালী হবে পাউন্ড। সেক্ষেত্রে, EUR/USD অথবা GBP/USD ট্রেড করা থেকে কিন্তু সরাসরি EUR/GBP সেল দেয়াই ভালো। কারন, ডলার শক্তিশালী নাকি দুর্বল হবে, তা আপনি জানেন না। এক্ষেত্রে, EUR/GBP ট্রেড করলে, ডলারের মুল্য পরিবর্তন আপনার ট্রেডকে তেমন একটা প্রভাবিত করবে না।

অনেকেই, তাই নিউজ ইফেক্ট পরিহার করার জন্য, নিউজকালীন সময়ে ক্রস কারেন্সি পেয়ার ব্যবহার করেন।


আপনার জন্য ধাঁধাঃ

AUD/USD ও GBP/USD দুটোরই বাড়ার সম্ভাবনা আছে। AUD/GBP চার্ট চেক করে দেখলেন পেয়ারটি শক্তিশালী হচ্ছে। তাহলে, AUD/USD নাকি GBP/USD, কোন পেয়ারটি বাই দেয়া শ্রেয়?

Safe Haven Currency

29 নভেম্বর 2012 - 05:06 অপরাহ্ণ

ইংরেজি "haven" শব্দটার বাংলা অর্থ হচ্ছে আশ্রয়স্থল। তার মানে "safe haven" শব্দটার অর্থ দাড়ায় "নিরাপদ আশ্রয়স্থল"

হটাত করে নিরাপদ আশ্রয়স্থল খোঁজার দরকার পড়ল কেনো? কারন, আমার লেখার বিষয় বস্তুই হচ্ছে "safe haven currency"

তার মানে, "নিরাপদ আশ্রয়স্থল মুদ্রা"? নাহ, বাংলা নামটা মোটেই মানাচ্ছে না। তার থেকে বরং চলুন ইংরাজি নামটাই ব্যবহার করা যাক, "সেফ হেভেন কারেন্সি"

তো জানা যাক, এই "সেফ হেভেন কারেন্সি" কি জিনিস এবং কিই বা তার ব্যবহার।

নামেই সার্থকতা, "সেফ হেভেন কারেন্সি" হচ্ছে ফরেক্স ট্রেডারদের বিপদের আশ্রয়স্থল। এটি এমন একটি মুদ্রা যেটাকে ফরেক্স ট্রেডাররা আর যেকোনো মুদ্রা থেকে বেশী বিশ্বাস করে। আর তাই যখনই, ফরেক্স মার্কেটে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় বা বৈশ্বিক অর্থনীতি অস্থির হয়ে পড়ে, তখনই ট্রেডাররা সেফ হেভেন কারেন্সি এর দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং কিনতে শুরু করে।

"সেফ হেভেন কারেন্সি" কোনগুলো?

ডলার, ইয়েন এবং সুইস ফ্রাঙ্ক, মুলত এই তিনটি মুদ্রাকেই সেফ হাভেন কারেন্সি হিসেবে ধরা হয়। এর বাইরে স্বর্ণও "সেফ হেভেন" হিসাবে বহুল ব্যবহৃত হয়। অনেকের কাছে পাউন্ড ও অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও সেফ হেভেন। কিন্তু, তা সর্বজনগ্রাহ্য নয়।

কেনো "সেফ হেভেন"?

একটি প্রশ্ন মনে আসা স্বাভাবিক। তা হচ্ছে কেনো এই মুদ্রাগুলোকে এতটা নিরাপদ ভাবা হয়। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারন রয়েছে।

প্রথমত, ডলার, ইয়েন এবং সুইস ফ্রাঙ্ক, এগুলো কোন দেশের মুদ্রা? যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং সুইজারল্যান্ড। তিনটি দেশেরই অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী, তার থেকেও বড় কথা দেশগুলোর অর্থনীতি দীর্ঘসময় ধরে স্থিতিশীল। ইউরোপের দিকে তাকান, ঋণ ভারে জর্জরিত এর বিভিন্ন সদস্য দেশ। তাই সঙ্গত কারনেই, বিনিয়োগকারীরা সংকটের সময় তাদের মূলধনের পূরোটা এসব দেশে রাখতে সাহস পান না। বরং, সেক্ষেত্রে তারা একটি নিরাপদ মুদ্রাকেই আশ্রয়স্থল হিসাবে খোঁজেন।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সুইজারল্যান্ড, এই দেশগুলোর অর্থনীতি অত্যন্ত শক্তিশালী বলে, বৈশ্বিক সংকতের সময় তা খুব বেশী আক্রান্ত হয় না। যেমন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি চীনের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল যেহেতু, চীনের অর্থনীতি এর রপ্তানি বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল। বিশ্ব অর্থনীতি শ্লথ হয়ে এলে, চীনের অর্থনীতিতে তার বড় ধরনের প্রভাব পড়ে যেটা যুক্তরাষ্ট্র অথবা জাপানের ক্ষেত্রে ঘটে না যেহেতু এসব দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি অনেক শক্তিশালী। সংকট সময়ে, সেফ হেভেন কারেন্সিগুলোর দিকে ট্রেডারদের ঝুঁকে পড়ার এটা অন্যতম কারন।

তবে, সেফ হেভেন কারেন্সিগুলোর একটা সমস্যা আছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে বার্ষিক সুদের হার ০.২৫ শতাংশ, জাপানে ০.১০ শতাংশ এবং সুইজারল্যান্ডে একেবারেই শূন্য। আর সে কারনে অর্থনীতির অবস্থা ভালো হতে শুরু করলেই, সেফ হাভেন "লো ইয়েল্ডিং কারেন্সি" থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে ট্রেডাররা ছোটে তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ "হাই ইয়েল্ডিং কারেন্সি" এর প্রতি।

"হাই ইয়েল্ডিং কারেন্সি" কি? এই নিয়ে আলোচনা করব পরের পোস্টে।

ডলার স্মাইল থিওরি

25 নভেম্বর 2012 - 03:16 অপরাহ্ণ

ডলার স্মাইল থিওরি

একদা তিনি ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র ছিলেন। নিয়েছিলেন এর উপর ব্যাচেলর ডিগ্রিও। কিন্তু, বিজ্ঞানের এসব নিরস বিষয় ভালো লাগলনা বলেই কিনা, হটাত করে পড়াশোনা শুরু করলেন অর্থনীতির উপর। বিখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করলেন। একে একে মেধার স্বাক্ষর রাখলেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সহ আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকেও। বিশ্ববিখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। ছিলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট এর খন্ডকালীন শিক্ষকও।

নাহ! এগুলোর কোনোটিই স্টিফেন জেনকে চেনার মত যথেষ্ট নয়। ফরেক্সে স্টিফেন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তার বিখ্যাত "ডলার স্মাইল" থিওরির জন্য।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে


দৃশ্যপট ১#

বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত। মন্দায় আক্রান্ত হচ্ছে একের পর এক উন্নত দেশ। স্বাভাবিকভাবেই, আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়বেন বিনিয়োগকারীরা। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে বিনিয়োগ রাখবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তারা। অনেক প্রাতিষ্ঠানিক ফরেক্স ট্রেডারই ফরেক্স ট্রেডিং এর পাশাপাশি স্টক ট্রেডিং করে থাকেন। যখনই কোনো দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, তার সাথে বিপর্যস্ত হয় স্টক মার্কেটেও। তাই বিনিয়োগকারীরা চান দ্রুত তাদের বিনিয়োগ সে দেশ এবং সে দেশের মুদ্রা থেকে কোনো নিরাপদ মুদ্রায় সরিয়ে নিতে। আর এক্ষেত্রে তাদের প্রথম পছন্দ হচ্ছে ডলার। নানা কারনেই ডলারকে "সেফ হেভেন" অথবা নিরাপদ আশ্রয় মনে করা হয় যার মধ্যে বিশ্বের রিজার্ভ কারেন্সি হওয়াও একটি।

অর্থনীতির সাধারণ সূত্র হচ্ছে, "চাহিদা যত বাড়ে, যোগান সীমাবদ্ধ থাকলে দামও তত বাড়েঃ। আর তাই, ডলারও শক্তিশালী হয়।

এক্ষেত্রে, লক্ষণীয় যে বিনিয়োগকারীরা যদি একবার আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনায় না এনেই ডলারে ফিরে যায়। কারন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবস্থা যাই থাকুক, তারপরও দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্থিতিশিল অর্থনীতির অধিকারী।


দৃশ্যপট ২#

দুর্বল হতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। ফরেক্স মার্কেটে প্রায়ই বিভিন্ন ইকোনমিক নিউজ প্রকাশিত হচ্ছে/ঘটছে। এক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির সূচকগূলো দুর্বল হচ্ছে। জিডিপি কমে যাচ্ছে, সুদের হারও কমানো হচ্ছে। তার সাথে সাথে ডলারও দুর্বল হচ্ছে। হাসির যে ছবিটি উপরে দেখতে পাচ্ছেন, তার নিচের অংশ এটাই নির্দেশ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যত দুর্বল হবে, ডলারও তত দুর্বল হবে।

আগের দৃশ্যপটের সাথে এবারের পার্থক্য হল, এক্ষেত্রে ট্রেডাররা আতঙ্কগ্রস্থ নন কিন্তু তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে হতাশ। কোনো দেশের অর্থনীতি দুর্বল হলে, সে দেশের কারেন্সি দুর্বল হয়, এই সূত্রানুসারেই পড়ছে ডলার।


দৃশ্যপট ৩#

আবার হাসছে ডলার। রাতের আধার পেরিয়ে আলোর মুখ দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, আর সেই সাথে ডলারও পেয়েছে অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষমুখের সন্ধান। অর্থনীতি ভালো হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ডলারের চাহিদা তথা দাম বাড়তে শুরু করেছে। একে বলা হয় গ্রীনব্যাক।

যেহেতু, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে, তাই ধরে নেয়া যায় জিডিপিতে প্রবিদ্ধি হচ্ছে, বাড়বে সুদের হারও যা ডলারকে আরো শক্তিশালী করবে।


এটাই হচ্ছে স্টিফেন জেনের "স্মাইল থিওরি" এবং বেশ কয়েক বছর ধরেই এই থিওরি বেশ ভালোভাবেই কাজ করছে।। এই থিওরি বড় ধরনের আলোচনায় আসে ২০০৭ সালের বৈশ্বিক মন্দা শুরুর সময়। যারা অনেক দিন ধরে ফরেক্স ট্রেড করেন, তারা জানেন যে এই সময়ে ডলার কতটা শক্তিশালি হয়েছিল। দৃশ্যপট ১ এর সাথে এর তুলনা করতে পারেন।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে



২০০৭ থেকে ক্রমান্বয়ে ডলার শক্তিশালী হওয়ার পর হটাত করেই বৈশ্বিক অর্থনীতির উন্নয়নের আভাসে ও দুর্বল আমেরিকান অর্থনীতির কারনে ডলারের উপর থেকে মুখ ফিরিয়ে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়ে উঠেন ইউরো/পাউন্ড/অস্ট্রেলিয়ান ডলারের প্রতি। সে বছর ডলারের পারফরমেন্সই সবচেয়ে খারাপ ছিল। .

সামনের দিনগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নিশ্চিতভাবে অনেক উত্থান পতন ঘটবে। তো দেখা যাক, ডলার থিওরি আগামী দিনগুলোতে কেমন কাজ করে।

অসাধারণ মেধাসম্পন্ন এই লোকটি শুধু একটি থিওরি দিয়েই ক্ষ্রান্ত দেননি, এখনো ফরেক্সের সাথেই আছেন।। সম্প্রতি, একটি নতুন হেডজ ফান্ডও খুলেছেন তিনি।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে



আমরা তার নতুন হেডজ ফান্ডের সাফল্য আশা করতেই পারি!

মন খুলে হাসুন এবং "ডলার স্মাইল থিওরী" ব্যবহার করে ফরেক্স মার্কেটকে আরো ভালোভাবে বুঝুন।

ফিস্কাল ক্লিফ (Fiscal Cliff)

21 নভেম্বর 2012 - 01:30 অপরাহ্ণ

ফরেক্স মার্কেটে সামনের দিনগুলোতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হবে কোনটি?

নব নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সামনে আপাতত সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কোনটি?

দুটো প্রশ্নের উত্তর একটাই। ফিস্কাল ক্লিফ (Fiscal Cliff)


যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তার জাতীয় ঋণ কমিয়ে আনা। অনেক বছর ধরেই ধারের উপর চলছে দেশটি, অর্থাৎ আয় যতটা না, ব্যয় তার থেকে অনেক বেশি। কতটা বেশী হতে পারলে দেশটির ঋণের পরিমান তার জিডিপির (জিডিপি - মোট দেশজ উৎপাদন) সমান হতে পারে একবার ভেবে দেখুন? এই বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমান ছাড়িয়ে গেছে ১১ ট্রিলিয়ন ডলার, ১২ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁই ছুঁই। যা একদিনে সারা বিশ্বের ফরেক্স মার্কেটে যে লেনদেন হয়, তারও তিনগুন বেশী।


ক্রমবর্ধমান এই ঋণ নিয়ে যে মার্কিনীরা চিন্তিত নয়, তা নয়। ইতিমধ্যেই পাস হয়েছে বাজেট কন্ট্রোল আইন ২০১১. এই আইন অনুযায়ী, ২০১২ এর শেষে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনার জন্য, তথাপি ক্রমবর্ধমান ঋণের লাগাম টেনে ধরার জন্য আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। যার মধ্যে রয়েছেঃ

১.মন্দা মোকাবেলার জন্য যে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে, তা তুলে নেওয়া।
২.করের হার বাড়ানো।
৩.ওবামার স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বীমার জন্য নতুন করে করারোপ করা
৪.সর্বোপরি রাজস্ব আয় কমিয়ে আনা

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাধারণ কর্মচারীদের উপর করের হার বাড়তে পারে ২ শতাংশ। উল্লেখযোগ্য পরিমানে ট্যাক্স বাড়বে বিনিয়োগ থেকে উপার্জিত অর্থের উপর। আগে যেখানে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মূলধনের উপর ট্যাক্স ছিল ১৫ শতাংশ, তা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ শতাংশে।

ধনী আমেরিকানদের উপর এই করটা হবে আরও ৩.৮ শতাংশ বেশী, অর্থাৎ ২৩.৮ শতাংশ। ধনী আমেরিকান বলতে তাদের বোঝানো হয়েছে যাদের একক মূলধনী হিসাবে বার্ষিক আয় ২ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারের বেশি (প্রায় ২ কোটি টাকা) এবং যৌথ মূলধনী হিসাবে বার্ষিক আয় ২ লক্ষ ডলারের বেশি (প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা)।

ডিভিডেন্ড থেকে উপার্জিত আয়ের উপর কর বসবে আরো বেশী। সাধারণদের জন্য ৩৯.৬ শতাংশ এবং ধনীদের জন্য ৪৩.৪ শতাংশ।

এছাড়া সরকারী ব্যয়েও বড় ধরনের কাটছাট করবে সরকার, যার মধ্যে রয়েছে সামরিক বাজেটও। তবে সামাজিক নিরাপত্তা, ফেডারেল পেনশন, এরকম কিছু জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এর আওতার বাইরে থাকবে।

একসাথে এতোগুলো কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার কারনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে এবং সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়াকেই বলা হচ্ছে ফিস্কাল ক্লিফ।

ছবি পোস্ট করা হয়েছে




উদ্বেগ যে কারনে

মন্দা কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। ওবামার সময়ে বেকারত্বের হার বেড়ে সর্বোচ্চ্য সীমায় পৌঁছালেও তা আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। কিন্ত, এখনও শক্তিশালী নয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। আর তাই একসাথে এতগুলো কঠিন পদক্ষেপ অর্থনীতির উপর কি প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই। করের হার ব্যাপকভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি ধনীদের বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে, যারা সবচেয়ে বেশী কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, বুশের শাসনামলে প্রদত্ত ট্যাক্স সুবিধা তুলে নেওয়া। মূলত, রুগ্ন প্রতিষ্ঠানগুলোই পেয়েছিল এসব ট্যাক্স সুবিধা। এগুলো কতটুকু শক্তাশালি হয়েছে এবং কর অবকাশ সুবিধা তুলে দেওয়া হলে এগুলো টিকতে পারবে কিনা তাও ভাববার বিষয়।

তাহলে কেনো এই ফিস্কাল ক্লিফ?

গলায় কাটা বিঁধলে যা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা ঠিক তা। দেশটির সামনে এখন দুটি রাস্তা খোলা আছে।

প্রথমত, করের হার বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে দেশটির ঋণের পরিমাণকে কমিয়ে আনা। কিন্তু, তার ফলে মারাত্মক অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে দেশটি। আবার ফিরে আসতে পারে মন্দা, বেকার হতে পারে লক্ষ লক্ষ মানুষ এবং এই মন্দা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, বর্তমানের মতই আরও ঋণ নিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা ও শক্তাশালি করা এবং তার পর আস্তে আস্তে ঋণের পরিমান কমিয়ে আনা। কিন্তু, সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মত ভবিষ্যতে দেউলিয়া হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে দেশটির।

করণীয় কি?

আইন অনুযায়ী সব কিছু এগোলে নতুন বছরের শুরুতেই ফিস্কাল ক্লিফের সম্মুখীন হবে যুক্তরাষ্ট্র। আসলে, এ পদক্ষেপ আরও আগেই নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু, অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যু বিধায় তা নির্বাচন পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখে ওবামা প্রশাসন। এতে যে তারা সফল হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে, অনেকেই মনে করছে, একেবারে সবগুলো পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ঝুঁকির পথে পা নাও বাড়াতে পারে ওবামা প্রশাসন। কিন্তু, ওবামার নতুন স্বাস্থ্য বীমা নীতির কারনে সরকারের ব্যয় বাড়বে আর তাই ওয়াল স্ট্রীটের উপর যে ট্যাক্সের বোঝা বাড়ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এ কারনেই মিট রমনির পক্ষে ছিল ওয়াল স্ট্রিট ও আমেরিকার ধনী ব্যবসায়ীরা কেননা তাদের উপর ট্যাক্স বাড়াবার পরিবর্তে কমানোর পক্ষে ছিলেন মিট রমনি। একারনে ওবামা নির্বাচিত হওয়ার পর পরই পড়ছে আমেরিকার শেয়ার বাজারের সূচক। যেহেতু, শেয়ার বাজার ও ফরেক্স মার্কেটের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, তাই দুর্বল হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ কারেন্সিগুলোও, যেমন - ইউরো।

ফরেক্স ট্রেডারদের করনীয়

ফিস্কাল ক্লিফের কারনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে মন্দার সূচনা হলে তা প্রকান্তরে শাপে বর হতে পারে ফরেক্স ট্রেডারদের জন্য। কেননা, ডলার হচ্ছে বিপদে আস্থার প্রতীক এবং এটা একপ্রকার নিশ্চিত যে মন্দা দেখা দিলেই ডলার শক্তিশালি হবে। সেক্ষেত্রে, ডলার কিনে ইউরো, পাউন্ড, অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিক্রি করাই হবে বুদ্ধিমানের।

ওবামা নির্বাচিত হওয়ার পর পরই শুরু হয়ে গেছে ফিস্কাল ক্লিফ নিয়ে জল্পনা কল্পনা। এমতাবস্থায়, আগামী দিনগুলোতে ফেড চেয়ারম্যান বেনেদিকের ফিস্কাল ক্লিফ সংক্রান্ত যে কোনো মন্তব্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের ছাড় বাজারে আস্থা বাড়াবে তথা দুর্বল করবে ইউরো/ইউএসডি (EUR/USD), জিবিপি/ইউএসডি (GBP/USD), ওডি/ইউএসডি (AUD/USD) কে এবং শক্তাশালি করবে ইউএসডি/জেপিওয়াইকে (USD/JPY)। আর যদি ফিস্কাল ক্লিফেরই সম্মুখীন হতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে, তা হলে ঘটবে এর উল্টোটা।

কি হতে পারে শেষ পর্যন্ত?